Specification
|
KTM Duke 200
|
KTM RC 200
|
|
Displacement(cc)
|
199.5
|
200
|
|
price
|
₹1,71,917
|
₹1,96,128
|
|
Maximum power
|
25.1bhp
@10,000rpm
|
25.1bhp
@10,000rpm
|
|
Maximum torque
|
19.5Nm
@8,000rpm
|
19.5Nm
@8,000rpm
|
|
Fuel tank
capacity(litres)
|
10.2
|
9.5
|
|
Mileage
|
34kmpl
|
30kmpl
|
|
Overall lenth
|
2,050
|
X
|
|
Saturday, May 9, 2020
Tuesday, May 5, 2020
অপরিচিতার ভালবাসা
রোজ সকালে ঘুম থেকে দেরী করে উঠা একটা নিয়মিত রুটিনে পরিনত হয়েছে।
তাই আজও তার ব্যাতিক্রম হয় নি। আমি অবশ্য নিয়মিত ভার্সিটি যাই নাহ।
বিকেলে স্যারের বাসায় পরতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।
রাস্তার মোড় পেরুতেই পিছন থেকে একটা মেয়ে ঠিক আমার পাশে এসে আমার পায়ের তালে হাটতে শুরু করেছে।
আমি ব্যাপার টাকে তেমন একটা গুরুত্ব দিলাম নাহ।
কিন্তু পরক্ষনেই তা ভুল প্রমান হলো।
\ -এই যে , আপনার ফোনটা দিন তোহ।(মেয়ে)
-জ্বী, কি বললেন?
-আচ্ছা আপনাকে দেখে তো সুস্থই মনে হচ্ছে।কিন্তু আপনি যে কানে একটু কম শুনেন তা তো জানা ছিলো নাহ।(মেয়ে)
-হোয়াট ননসেন্স! আমি কানে কম শুনবো কেন?
-তাহলে আমি যা বললাম তা আপনি কি শুনেন নাই?(মেয়ে)
-কি বলছেন আপনি?
-আপনার ফোনটা দিন।(মেয়ে)
-কেন? আমি আপনাকে ফোন দিবো কেন? আমি তো আপনাকে চিনি নাহ।
-কিন্তু আমি আপনাকে চিনি।(মেয়ে)
-কি করে চিনেন?
-আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-কিহ?
-আচ্ছা আপনি কি সত্যিই কানে কম শুনেন? এতে কিন্তু আমার প্রেসটিজ কমবে। আপনি দ্রুত একটা ডাক্তারের শনাপন্ন হবেন। ওকে।(মেয়ে)
-কি যা তা বলছেন আপনি।
-আমি যা তা বলি নি । বলছি যে আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-আর আপনি আমাকে চিনেনই বা কিভাবে?
-আমি আপনাকে রোজ ফলো করি। আপনার নাম ঈষান, আপনি এবার অনার্স ৩য় বর্ষে ঢাবি তে ফিজিক্স নিয়ে পরছেন।(মেয়ে)
(এখন অবশ্য অবাক হবার পালা,গড়্গড় করে একের পর এক ডিটেইলস বললো)
-আআআআপনি এত কিছু জানেন কিভাবে?
-এত কিছুই না, আরো কত কি জানি।(মেয়ে)
-কিন্তু কিভাবে জানেন?
-কারন আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-কেন ?
-আচ্ছা আমি কিন্তু অনেক আগেই আপনার ফোনটা চেয়েছি। ফোনটা দিন এবার।(একটু ঝাড়ি দিয়ে)(মেয়ে)
(আমিও বাধ্য ছেলের মত পকেট থেকে ফোনটা বের করে দিলাম।)
-এই নিন।
(দেখলাম কি যেনো করলো। বাট ঠিক করে খেয়াল করতে পারি নি)
-এই নিন আপনার ফোন।(মেয়ে)
-কি করলেন?
-কিছু নাহ। যান এবার, আপনার পড়ার সময় চলে যাচ্ছে।(মেয়ে)
--- আমার নামটা তো আগেই জানলেন।
আমি কোথায় পড়াশোনা করি তাও জানলেন।
\ রাতে বাসায় এসে, ফ্রেশ হলাম।খেয়েদেয়ে শুয়ে পরলাম।
ফেসবুক গুতাগুতি করছি।রাত প্রায় ১০ টা বাজে।এমন সময় হটাত ফোন, ঐন্দ্রিলা নামটা ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো।
গভীরভাবে ভাবতে ভাবতে কলটা কেটে গেলো।
আবার ফোন। এবার রিসিভ করতেই হবে।
-আসসালামুয়ালাইকুম।
-ওয়ালাইকুমুস সালাম।(ঐন্দ্রিলা)
-জ্বী কে বলছেন?
-কানে কম শোনার সাথে সাথে কি চোখেও কম দেখেন নাকি।(ঐন্দ্রিলা)
-চোখে কম দেখবো কেন?
-তাহলে আমাকে আবার জিজ্ঞেস কেন করলেন যে আমি কে? আমার নামটা আপনার ফোনে তো সেভ করাই ছিলো।(ঐন্দ্রিলা)
-ও তার মানে আপনিই সেই অপরিচিতা।
-জি। (ঐন্দ্রিলা)
-তা ফোন করলেন কেন?
-এমনি, ভালবাসার মানুষের খোজ খবর নিতে হবে না, তাই আরকি।(ঐন্দ্রিলা)
-কিসের ভালবাসা, আমি তো কিছুই বুঝি নাহ।
( এই নিয়ে সেদিন রাতে অনেক কথা হলো, মেয়েটির নামতো অলরেডি পাবলিশড,ঐন্দ্রিলা এবার আমারই ভার্সিটির ১ম বর্ষের ছাত্রী।)
\ আজ অনেকটা দিন হয়ে গেলো ঐন্দ্রিলার সাথে আমার পরিচয়, আমি ওকে অপরিচিতাই ডাকতাম।
কিন্তু ভালবাসাই আমি বিশ্বাসি নাহ।বিশ্বাসি না বললে ভুল হবে, বিয়ের আগে বিশ্বাসি নাহ।
জন্ম মৃত্যু বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে।
কার সাথে কার বিয়ে হবে তা শুধু একমাত্র আল্লাহ পাক জানেন।
এক জনের আমানতের উপর আমার কোন অধিকার থাকতে পারে নাহ, না নেই।
আমি যে মেয়েকে ভালবাসি তাকে আদোউ পাবো কিনা তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? না নেই।সে তো অন্য কারো আমানতও হতে পারে।
তাই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বিয়ে যাকে করবো তাকেই ভালবাসবো।
\ পড়শুনা কমপ্লিট করে একটা সরকারী চাকুরী করছি।
আমার অবশ্য চাকরী না করলে কারো কোন ক্ষতি হবে নাহ।
আজ অফিস বন্ধ, কারন আজ শনিবার,সরকারি অফিস গুলোতে শনিবার দিন কাজ বন্ধ থাকে।তাই খুব বেলা করে ঘুমাচ্ছি।
পাশের রুম থেকে হো হো হাসাহাসির আওয়াজ পাচ্ছি।তার মানে কোন মেহমান এসেছে।
ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে গেয়ে ১২০ ভোল্টের একটা শক খেলাম।
একি , চোখটা ভালোভাবে কচলিয়ে আবার তাকালাম।
আরে এই মেয়েটার তো সাহস কম নাহ। আমার বাসায় চলে আসছে।
আর আমার বোন , মা সবাই তো আসর জমিয়ে ফেলেছে।
আমি আবার আমার রুমে এসে বিছানায় গা টা হেলিয়ে দিলাম।
আমারও যে ঐন্দ্রিলাকে ভাল লাগে না তা নাহ।আমারও ওকে ভাল লাগে।হটাত দরজায় নক।
দেখি ঐন্দ্রিলা আমার দিকেই আসছে।
এসেই আমার উপর চড়ে বসলো।
-কি বলছিলে তুমি, আমাকে ভালবাসতে পারবে না, তাই নাহ? এবার দেখো ।(ঐন্দ্রিলা)
এই বলেই আমার রুম থেকে চলে গেলো।
আমি তো পুরো বলদ হয়ে গেলাম।চুপচাপ বসে আছি।
\ রাতে আদিবা(ছোট বোন) রুমে আসলো।
-কিরে তলে তলে এতদূর, আর আমরা কিছুই টের পেলাম নাহ।(আদিবা)
-কি যাতা বলছিস। কথা না পেচিয়ে সোজাসুজি বল।
-এই আমার সাথে ন্যাকামি করবি না একদম। মেয়েটার সাথে তোর রিলেশন আমাদের জানাস নাই কেন?(আদিবা)
-কি বলিস, কোন মেয়ে, কার সাথে রিলেশন?
-আকাশ থেকে পরছিস মনে হচ্ছে।(আদিবা)
-ঐন্দ্রিলা আপুর সাথে যে তোর এক বছরের রিলেশন তা আমাকে বলিস নি কেন? আর তোকে বিয়ের কথা বললেই পালাস। এবার তোর বিয়ে দিয়েই ছাড়বো।(আদিবা)
-যা খুসি তাই কর।
\ কিছুক্ষন পর আবার আম্মুর আগমন।
-এই মেয়েটার নাম্বার দে তোহ, আমি নাম্বারটা রাখতে ভুলে গেছি।
-কোন মেয়ের নাম্বার?
-কোন মেয়ে মানে? তুই যাকে বিয়ে করবি তার নাম্বার।
-আমি আবার কাকে বয়ে করবো।
-ঐন্দ্রিলার নাম্বারটা দে।
-০১৯***৪৮৪৩৬ \ সব কিছু কেমন যেনো গুলিয়ে যাচ্ছে।
সামনের মাসের ২৪ তারিখ নাকি আমার বিয়ে।
এই মেয়ে আমাকে বিয়ে করেই ছাড়বে।বিয়ের দিন তারিখ ঘনিয়ে এলো।
আজকে আমার বাসর রাত, সরি আমাদের বাসর রাত।
সব কিছু খুব থীজি স্পিডে হয়ে গেলো।
\ -কিরে এখানে দারিয়ে কি করছিস?(আম্মু)
-কিছু নাহ।
-যা রুমে যা, বউমা অপেক্ষা করছে।(আম্মু)
- পরিশেষে রুমের দিকে যাবার জন্য পা বারালাম।রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম।
এক বিরাট মাপের ঘোমটা দিয়ে খাটের উপর কে যে বসে আছে তা বুঝা যাচ্ছে নাহ।
তাই বুঝার জন্য কাছেই যেতে হবে।
কাছে যাবার সাথে সাথে ঘোমটা খুলে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম নাহ।
আপনারা আবার অন্য কিছু মনে কইরেন নাহ যে কি দেখলাম।দেখিছি আমার বউকে।
ঐন্দ্রিলা দেখতে এমনিতেই অনেক সুন্দর।
আর আজ আমার মনের আশা পুরন হলো।
এখন থেকে আমার সব ভালবাসা আমার বউয়ের জন্য।
বাসর রাতে কি কি হয় তা কম বেশি সব বয়সের মেয়ে ছেলেদেরই কম বেশি জানা আছে।
কারন আজকাল ছেলে মেয়েরা ইচড়ে পাকা।
তাই এই কথা গুলো না বলাই ভালো।
রাতে অনেক দুষ্টমির পর। ঘুমিয়ে পরলাম।
সকাল হয়ে গেছে অনেক আগে।
কিন্তু পাশে হাত দিয়ে দেখি কেউ নেই।
তার মানে ঐন্দ্রিলা আরোও আগে উঠেছে।
আমি আবার বিছানায় শুয়ে পরলাম।
কিছুক্ষন পর ঐন্দ্রিলার আগমন।
মনে হচ্ছে গোসল করে এসেছে।
ভেজা চুল গুলো তার উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের পিঠে ঝাপটে আছে।
পড়নে হলুদ কালারের একটা শাড়ী।
হলুদ রঙ টাতে তাকে খুব ভালোই মানায়।
জানালা খুলতে যাবে ঠিক তখনই এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসলাম।
-এই ছাড়ো , কেউ দেখে ফেলবে।দরজা কিন্তু খোলা।(ঐন্দ্রিলা)
-না কেউ দেখবে নাহ।
-ছাড়ো বলছি, সারারাত খালি দুষ্টমি করছো, এখন আবার শুরু করছো।(ঐন্দ্রিলা)
-আমার বউ, আমি যা ইচ্ছে তাই করবো।
-উফফ এত ছেলে মানুষি করো নাতো। ছাড়ো।(ঐন্দ্রিলা)
-ওকে, তাহলে একটা পাপ্পি দাও, তাহলে ছাড়বো, নাহলে আজ আর ছাড়ছি না।
-ওকে দিবো, তার আগে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে আসি, তা না হলে কেউ দেখে ফেলবে।(ঐন্দ্রিলা)
-ওকে যাও।
-হাহা। বোকা হাদারাম কোথাকার, তুমি এখন আরো বেশি করে ঘুমাও, আমি যাচ্ছি,(ঐন্দ্রিলা)
-এই এই, তুমি কিন্তু চিটিং করছো,
\ ফ্রেশ হয়ে অফিসে গেলাম।
আজকে নিজের টাই নিজেই বেধে ফেললাম, বউকে দিয়ে টাই বাধালে নাকি ভালবাসা বাড়ে, কিন্তু আজ সেটা হলো নাহ।
অফিসে চলে গেলাম,
এর মাঝে অনেক কথা হয়েছে।
রাতে বাসায় ফিরে আসলাম।
\ পরের দিন সকালে টাই বাধার জন্য ঐন্দ্রিলাকে ডাক দিলাম।
-এই আমার টাইটা একটু বেধে দাও তোহ।
-এত বড় হয়েছো একটা টাই ও বাধতে পারো নাহ?(ঐন্দ্রিলা)
(ঐন্দ্রিলা আমার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আমার টাই বাধছে, আর আমি তার দিকে অপলক তাকিয়ে আছি। মেয়েটির নাকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছিলো। বেশ ভালোই লাগছিলো।)
-এখন কই যাবা, সোনা।
-এই ছাড়ো , প্লিজ।(ঐন্দ্রিলা)
-উহুম, আজ আর ছাড়ছি না, তোমাকে বিশ্বাস নেই, তুমি আবার পালাবে।
তাই তার সেই গোলাপী ঠোটে এক লম্বা পাপ্পি দিয়ে দিলাম।
-আজ রাতে তুমি বাসায় আসো তার পর তোমার মজা দেখাচ্ছি।
অত-পর রোজ সকালে টাই বাধার সাথে সাথে একটা পাপ্পি ফ্রী।
- ভালবাসাটা সত্যিই অন্যরকম।
তাই আজও তার ব্যাতিক্রম হয় নি। আমি অবশ্য নিয়মিত ভার্সিটি যাই নাহ।
বিকেলে স্যারের বাসায় পরতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।
রাস্তার মোড় পেরুতেই পিছন থেকে একটা মেয়ে ঠিক আমার পাশে এসে আমার পায়ের তালে হাটতে শুরু করেছে।
আমি ব্যাপার টাকে তেমন একটা গুরুত্ব দিলাম নাহ।
কিন্তু পরক্ষনেই তা ভুল প্রমান হলো।
\ -এই যে , আপনার ফোনটা দিন তোহ।(মেয়ে)
-জ্বী, কি বললেন?
-আচ্ছা আপনাকে দেখে তো সুস্থই মনে হচ্ছে।কিন্তু আপনি যে কানে একটু কম শুনেন তা তো জানা ছিলো নাহ।(মেয়ে)
-হোয়াট ননসেন্স! আমি কানে কম শুনবো কেন?
-তাহলে আমি যা বললাম তা আপনি কি শুনেন নাই?(মেয়ে)
-কি বলছেন আপনি?
-আপনার ফোনটা দিন।(মেয়ে)
-কেন? আমি আপনাকে ফোন দিবো কেন? আমি তো আপনাকে চিনি নাহ।
-কিন্তু আমি আপনাকে চিনি।(মেয়ে)
-কি করে চিনেন?
-আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-কিহ?
-আচ্ছা আপনি কি সত্যিই কানে কম শুনেন? এতে কিন্তু আমার প্রেসটিজ কমবে। আপনি দ্রুত একটা ডাক্তারের শনাপন্ন হবেন। ওকে।(মেয়ে)
-কি যা তা বলছেন আপনি।
-আমি যা তা বলি নি । বলছি যে আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-আর আপনি আমাকে চিনেনই বা কিভাবে?
-আমি আপনাকে রোজ ফলো করি। আপনার নাম ঈষান, আপনি এবার অনার্স ৩য় বর্ষে ঢাবি তে ফিজিক্স নিয়ে পরছেন।(মেয়ে)
(এখন অবশ্য অবাক হবার পালা,গড়্গড় করে একের পর এক ডিটেইলস বললো)
-আআআআপনি এত কিছু জানেন কিভাবে?
-এত কিছুই না, আরো কত কি জানি।(মেয়ে)
-কিন্তু কিভাবে জানেন?
-কারন আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-কেন ?
-আচ্ছা আমি কিন্তু অনেক আগেই আপনার ফোনটা চেয়েছি। ফোনটা দিন এবার।(একটু ঝাড়ি দিয়ে)(মেয়ে)
(আমিও বাধ্য ছেলের মত পকেট থেকে ফোনটা বের করে দিলাম।)
-এই নিন।
(দেখলাম কি যেনো করলো। বাট ঠিক করে খেয়াল করতে পারি নি)
-এই নিন আপনার ফোন।(মেয়ে)
-কি করলেন?
-কিছু নাহ। যান এবার, আপনার পড়ার সময় চলে যাচ্ছে।(মেয়ে)
--- আমার নামটা তো আগেই জানলেন।
আমি কোথায় পড়াশোনা করি তাও জানলেন।
\ রাতে বাসায় এসে, ফ্রেশ হলাম।খেয়েদেয়ে শুয়ে পরলাম।
ফেসবুক গুতাগুতি করছি।রাত প্রায় ১০ টা বাজে।এমন সময় হটাত ফোন, ঐন্দ্রিলা নামটা ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো।
গভীরভাবে ভাবতে ভাবতে কলটা কেটে গেলো।
আবার ফোন। এবার রিসিভ করতেই হবে।
-আসসালামুয়ালাইকুম।
-ওয়ালাইকুমুস সালাম।(ঐন্দ্রিলা)
-জ্বী কে বলছেন?
-কানে কম শোনার সাথে সাথে কি চোখেও কম দেখেন নাকি।(ঐন্দ্রিলা)
-চোখে কম দেখবো কেন?
-তাহলে আমাকে আবার জিজ্ঞেস কেন করলেন যে আমি কে? আমার নামটা আপনার ফোনে তো সেভ করাই ছিলো।(ঐন্দ্রিলা)
-ও তার মানে আপনিই সেই অপরিচিতা।
-জি। (ঐন্দ্রিলা)
-তা ফোন করলেন কেন?
-এমনি, ভালবাসার মানুষের খোজ খবর নিতে হবে না, তাই আরকি।(ঐন্দ্রিলা)
-কিসের ভালবাসা, আমি তো কিছুই বুঝি নাহ।
( এই নিয়ে সেদিন রাতে অনেক কথা হলো, মেয়েটির নামতো অলরেডি পাবলিশড,ঐন্দ্রিলা এবার আমারই ভার্সিটির ১ম বর্ষের ছাত্রী।)
\ আজ অনেকটা দিন হয়ে গেলো ঐন্দ্রিলার সাথে আমার পরিচয়, আমি ওকে অপরিচিতাই ডাকতাম।
কিন্তু ভালবাসাই আমি বিশ্বাসি নাহ।বিশ্বাসি না বললে ভুল হবে, বিয়ের আগে বিশ্বাসি নাহ।
জন্ম মৃত্যু বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে।
কার সাথে কার বিয়ে হবে তা শুধু একমাত্র আল্লাহ পাক জানেন।
এক জনের আমানতের উপর আমার কোন অধিকার থাকতে পারে নাহ, না নেই।
আমি যে মেয়েকে ভালবাসি তাকে আদোউ পাবো কিনা তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? না নেই।সে তো অন্য কারো আমানতও হতে পারে।
তাই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বিয়ে যাকে করবো তাকেই ভালবাসবো।
\ পড়শুনা কমপ্লিট করে একটা সরকারী চাকুরী করছি।
আমার অবশ্য চাকরী না করলে কারো কোন ক্ষতি হবে নাহ।
আজ অফিস বন্ধ, কারন আজ শনিবার,সরকারি অফিস গুলোতে শনিবার দিন কাজ বন্ধ থাকে।তাই খুব বেলা করে ঘুমাচ্ছি।
পাশের রুম থেকে হো হো হাসাহাসির আওয়াজ পাচ্ছি।তার মানে কোন মেহমান এসেছে।
ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে গেয়ে ১২০ ভোল্টের একটা শক খেলাম।
একি , চোখটা ভালোভাবে কচলিয়ে আবার তাকালাম।
আরে এই মেয়েটার তো সাহস কম নাহ। আমার বাসায় চলে আসছে।
আর আমার বোন , মা সবাই তো আসর জমিয়ে ফেলেছে।
আমি আবার আমার রুমে এসে বিছানায় গা টা হেলিয়ে দিলাম।
আমারও যে ঐন্দ্রিলাকে ভাল লাগে না তা নাহ।আমারও ওকে ভাল লাগে।হটাত দরজায় নক।
দেখি ঐন্দ্রিলা আমার দিকেই আসছে।
এসেই আমার উপর চড়ে বসলো।
-কি বলছিলে তুমি, আমাকে ভালবাসতে পারবে না, তাই নাহ? এবার দেখো ।(ঐন্দ্রিলা)
এই বলেই আমার রুম থেকে চলে গেলো।
আমি তো পুরো বলদ হয়ে গেলাম।চুপচাপ বসে আছি।
\ রাতে আদিবা(ছোট বোন) রুমে আসলো।
-কিরে তলে তলে এতদূর, আর আমরা কিছুই টের পেলাম নাহ।(আদিবা)
-কি যাতা বলছিস। কথা না পেচিয়ে সোজাসুজি বল।
-এই আমার সাথে ন্যাকামি করবি না একদম। মেয়েটার সাথে তোর রিলেশন আমাদের জানাস নাই কেন?(আদিবা)
-কি বলিস, কোন মেয়ে, কার সাথে রিলেশন?
-আকাশ থেকে পরছিস মনে হচ্ছে।(আদিবা)
-ঐন্দ্রিলা আপুর সাথে যে তোর এক বছরের রিলেশন তা আমাকে বলিস নি কেন? আর তোকে বিয়ের কথা বললেই পালাস। এবার তোর বিয়ে দিয়েই ছাড়বো।(আদিবা)
-যা খুসি তাই কর।
\ কিছুক্ষন পর আবার আম্মুর আগমন।
-এই মেয়েটার নাম্বার দে তোহ, আমি নাম্বারটা রাখতে ভুলে গেছি।
-কোন মেয়ের নাম্বার?
-কোন মেয়ে মানে? তুই যাকে বিয়ে করবি তার নাম্বার।
-আমি আবার কাকে বয়ে করবো।
-ঐন্দ্রিলার নাম্বারটা দে।
-০১৯***৪৮৪৩৬ \ সব কিছু কেমন যেনো গুলিয়ে যাচ্ছে।
সামনের মাসের ২৪ তারিখ নাকি আমার বিয়ে।
এই মেয়ে আমাকে বিয়ে করেই ছাড়বে।বিয়ের দিন তারিখ ঘনিয়ে এলো।
আজকে আমার বাসর রাত, সরি আমাদের বাসর রাত।
সব কিছু খুব থীজি স্পিডে হয়ে গেলো।
\ -কিরে এখানে দারিয়ে কি করছিস?(আম্মু)
-কিছু নাহ।
-যা রুমে যা, বউমা অপেক্ষা করছে।(আম্মু)
- পরিশেষে রুমের দিকে যাবার জন্য পা বারালাম।রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম।
এক বিরাট মাপের ঘোমটা দিয়ে খাটের উপর কে যে বসে আছে তা বুঝা যাচ্ছে নাহ।
তাই বুঝার জন্য কাছেই যেতে হবে।
কাছে যাবার সাথে সাথে ঘোমটা খুলে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম নাহ।
আপনারা আবার অন্য কিছু মনে কইরেন নাহ যে কি দেখলাম।দেখিছি আমার বউকে।
ঐন্দ্রিলা দেখতে এমনিতেই অনেক সুন্দর।
আর আজ আমার মনের আশা পুরন হলো।
এখন থেকে আমার সব ভালবাসা আমার বউয়ের জন্য।
বাসর রাতে কি কি হয় তা কম বেশি সব বয়সের মেয়ে ছেলেদেরই কম বেশি জানা আছে।
কারন আজকাল ছেলে মেয়েরা ইচড়ে পাকা।
তাই এই কথা গুলো না বলাই ভালো।
রাতে অনেক দুষ্টমির পর। ঘুমিয়ে পরলাম।
সকাল হয়ে গেছে অনেক আগে।
কিন্তু পাশে হাত দিয়ে দেখি কেউ নেই।
তার মানে ঐন্দ্রিলা আরোও আগে উঠেছে।
আমি আবার বিছানায় শুয়ে পরলাম।
কিছুক্ষন পর ঐন্দ্রিলার আগমন।
মনে হচ্ছে গোসল করে এসেছে।
ভেজা চুল গুলো তার উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের পিঠে ঝাপটে আছে।
পড়নে হলুদ কালারের একটা শাড়ী।
হলুদ রঙ টাতে তাকে খুব ভালোই মানায়।
জানালা খুলতে যাবে ঠিক তখনই এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসলাম।
-এই ছাড়ো , কেউ দেখে ফেলবে।দরজা কিন্তু খোলা।(ঐন্দ্রিলা)
-না কেউ দেখবে নাহ।
-ছাড়ো বলছি, সারারাত খালি দুষ্টমি করছো, এখন আবার শুরু করছো।(ঐন্দ্রিলা)
-আমার বউ, আমি যা ইচ্ছে তাই করবো।
-উফফ এত ছেলে মানুষি করো নাতো। ছাড়ো।(ঐন্দ্রিলা)
-ওকে, তাহলে একটা পাপ্পি দাও, তাহলে ছাড়বো, নাহলে আজ আর ছাড়ছি না।
-ওকে দিবো, তার আগে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে আসি, তা না হলে কেউ দেখে ফেলবে।(ঐন্দ্রিলা)
-ওকে যাও।
-হাহা। বোকা হাদারাম কোথাকার, তুমি এখন আরো বেশি করে ঘুমাও, আমি যাচ্ছি,(ঐন্দ্রিলা)
-এই এই, তুমি কিন্তু চিটিং করছো,
\ ফ্রেশ হয়ে অফিসে গেলাম।
আজকে নিজের টাই নিজেই বেধে ফেললাম, বউকে দিয়ে টাই বাধালে নাকি ভালবাসা বাড়ে, কিন্তু আজ সেটা হলো নাহ।
অফিসে চলে গেলাম,
এর মাঝে অনেক কথা হয়েছে।
রাতে বাসায় ফিরে আসলাম।
\ পরের দিন সকালে টাই বাধার জন্য ঐন্দ্রিলাকে ডাক দিলাম।
-এই আমার টাইটা একটু বেধে দাও তোহ।
-এত বড় হয়েছো একটা টাই ও বাধতে পারো নাহ?(ঐন্দ্রিলা)
(ঐন্দ্রিলা আমার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আমার টাই বাধছে, আর আমি তার দিকে অপলক তাকিয়ে আছি। মেয়েটির নাকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছিলো। বেশ ভালোই লাগছিলো।)
-এখন কই যাবা, সোনা।
-এই ছাড়ো , প্লিজ।(ঐন্দ্রিলা)
-উহুম, আজ আর ছাড়ছি না, তোমাকে বিশ্বাস নেই, তুমি আবার পালাবে।
তাই তার সেই গোলাপী ঠোটে এক লম্বা পাপ্পি দিয়ে দিলাম।
-আজ রাতে তুমি বাসায় আসো তার পর তোমার মজা দেখাচ্ছি।
অত-পর রোজ সকালে টাই বাধার সাথে সাথে একটা পাপ্পি ফ্রী।
- ভালবাসাটা সত্যিই অন্যরকম।
কষ্টের সব
প্রেম কাহিনী
Exit
ক্ষমা করে দিও
“আকাশ তোমার সময় হলে একটু ভেব আমার কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়ে যেও...।”
অর্থহীনের এই জনপ্রিয় গানটি শুনতে শুনতে যাচ্ছি।। মাগুরা থেকে খুলনা । বাস এ ঊঠার পর থেকেই এই গানটি শুধু শুনতে ইচ্ছে করছে ।
অনেক স্মৃতি বিজড়িত মাগুরা শহর কে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। যেতে ইচ্ছে করছেনা কিন্তু দুইদিন পর থেকে খুলনা ইউনিভার্সিটি এর ক্লাস শুরু হবে।
আস্তে আস্তে মেঠ পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাসটি। চলে যাবার সময়ে মনে হতে লাগলো মাগুরায় ফেলে আসা দিন গুলো। আমি যেন ফিরে গেলাম আমার হারানো আমিতে।
আমি তখন এস,এস,সি পাশ করে মাগুরার সরকারি কলেজে ভর্তি হলাম। নিজেকে খুব স্বাধীন মনে হত।
সারাদিন হই হুল্লর করে দিন কাটতো। কিন্তু আস্তে আস্তে জীবনটা কেমন একঘেয়েমি মনে হতে লাগলো। ধরা বাধা জীবনটা কে আর ভালো লাগছিল না।
তখনি আমার জীবনে আবির্ভাবতার। খুবিই অল্প সময়েই তার আবির্ভাব ।
কলেজ লাইফের প্রথমদিনেই আমি নিলাকে দেখি...। কিন্তু কখনো কথা বলা হয়নি। শুধু জানতাম মেয়েটা পড়ালেখায় অনেক ভালো ছিল।
একা একা সময় কাটতো না।। রুম মেট দের দেখাদেখি মিগে একটা আইডি খুললাম .। প্রথম দিনেই “মাগুরা কলেজ”নামে একটা চ্যাটরুমে ঢুকি।
ঐ খানে আমার কলেজের সব বন্ধুদের খুজে পাই।। আর পাই নিলাকে।। এতদিন একসাথে পড়ে ছি কিন্তু কোন দিন ও কথা বলি নি আমরা...। মিগ থেকেই আমাদের কথা বলা শুরু।
এদিকে টেস্ট পরিক্ষা চলে এসেছে ... পড়ালেখায় আমি ব্যস্ত। মাঝে মাঝে নিলা আমাকে পড়ালেখায় হেল্প করতো।
ওর সাথে আমার মোটামোটি একটা বন্ধুত্ব ছিল। সেটাকে ভালো বন্ধুত্তে নিয়ে যেতে চাই আমি।
আর সে জন্য নতুন একটা সিম দিয়ে ও কে এসএমএস পাঠাইলাম।। ও রেস্পন্স দিল ভালভাবেই যা আমি আশা করিনি।।
পরে জানতে পেরেছি ঐ দিন ওর মন অনেক খারাপ ছিল তাই আমাকে ঐ ভাবে গ্রহন করছে।
এভাবে আমি অর সাথে অনেক সুন্দর বন্ধুত্ব করি... কিন্তু জানত না যে এসএমএস এর ছেলেটিই ওরই ক্লাসমেট ।
এর মাঝে আমাদের মধ্যে খুবি ভালো বোঝাপড়া হয়েগেল। আমি ওকে প্রায় রাতে ফোন করে গান শুনাতাম ।
ও আমার গলার স্বর বুঝতে পারত না। অনেক কথা বলতাম... অনেক মজা করতাম।। কিন্তু একটি বার এর জন্য ও আমাকে চিনতে পারেনি...।
একদিন মনে হল আমরা অনেক গভিরে চলে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে আমারা পরনির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। মনে হলে নিলাকে এখনি জানান ভালো।
ওকে সবকিছু বললাম। এসএমএস এর ছেলেটি যে ওর ক্লাস ফ্রেন্ড এইটা ভেবে ও অনেক লজ্জা পেয়েছিল সেদিন। কিন্তু আমাকে ভুল বঝেনি।
ও হয়তো এসএমএস এর ছেলেটিকে পছন্দ করে ফেলছিল, েই জন্য ও আমাকে হয়তো ভুল বুঝিনি।
আমাদের বন্ধুত্ব যেন আর বারতে লাগলো। জীবনের অনেকটি অংশ জুড়ে ছিল ও। কল্পনায় ওকে ভাবতাম আমি।
একাকি নিঃসঙ্গ সময় গুলো অপলকে কেটে যেত ওকে ভেবে। ওকে স্বপ্ন সাথি করে কল্পলকের ধ্রুবতারা ভেসে বেরাতাম আমি।
আস্তে আস্তে ওকে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতাম। কিন্তু ওকে বলতে ভয় হত!!
সব ভয়কে জয় করে একদিন বলে ফেললাম আমি...। জানিনা ও কতটা অবাক হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ওর এসএমএস পেলাম। জানতে পারলাম ও আমাকে ভালবাসে।।
এভাবেই আমাদের কাছে আসা। এরপরের সময়টা স্বপ্নের মত। এদিকে ওদিকে ঘুরা ঘুরি।
ক্লাস,ব্যাচ ফাকি দিয়ে বিভিন্ন কফিশপে। দেখা করা।ওকে রিকশাতে তুলে দেয়া, ওর ভাললাগার গান শোনান, অপলকে তাকিয়ে থাকা ওর দিকে। আর কত কি...!!!
আমদের বিচরনে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। অনেক ভালবাসতাম ওকে।
এইচ এস সি এর পর ঢাকায় আসলাম কোচিং এ। তখনও ঘুরে বেরাতাম একসাথে।
কিন্তু হটাত কি যেন হল। বাসা থেকে যেনে গেল। আপুর কাছে ধরা খেলাম। অনেক বকা দিল আমায়।
মাগুরাতে আমার বাসায় ফোনে জানান হল। আমাকে সবায় মিলে অনেক উত্যক্ত করতে লাগলো।
অনেক কেঁদেছিলাম...। সমস্ত রাগ গিয়ে নিলার উপরে ঝারলাম। বেচারি আমাকে অনেক ভালোবাসতো।
আমার আচমকা আক্রমণে ও অবাক হয়েছিল। ওর প্রতিটি অশ্রু জলের সাক্ষী আমি ছিলাম, আমি কিন্তু ওর সাথে শেয়ার করে সব কিছু আগের মত করে নিতে পারতাম।
কিন্তু থার্ড পারসন রুপে একজন এসে আবার এলোমেল করে দিল আমায়। আমাকে নিলা থেকে দূরে ঠেলে দিল।
আর বাবা মাকে অনেক ভয় পেতাম, ভাই বোন দের কেও... । আমার এই কথা গুল কাউ কে বলতে পারতাম না।
নিলার সাথে কথা বলার চেস্টা করেও পারতাম না। পারিনি আমি, ভালবাসার সেই কাঙ্ক্ষিত প্রতিশ্রুতি রাখতে।
ও এদিন অনেক কেঁদেছিল। কিন্তু কই করবো আমি। আমার সাথে থাকলে যে আর কাদতে হত ওকে। তাই নিজেকে ওর থেকে সরিয়ে নিলাম কাপুরুষের মতই।
সেদিনের পর থেকে আর আমাদের ভালবাসা টেকেনি। আমি বারবার ফিরে আসতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি।
আবার নিলাকে ভুলতেও পারিনি। ও আমাকে অনেকটা ভালবাসত। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।
এই ছিল আমার জীবনের নিলা অধ্যায়। এখনে মাঝে মাঝে ওর সাথে দেখা হয়। কিন্তু ও নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে বলে আর কস্ট দিতে ইচ্ছে হয় না।
ক্ষমা করে দিয় আমাকে তুমি। কেও বুঝেনি আমাকে, জানিনা তুমি বুঝেছ কিনা...
অর্থহীনের এই জনপ্রিয় গানটি শুনতে শুনতে যাচ্ছি।। মাগুরা থেকে খুলনা । বাস এ ঊঠার পর থেকেই এই গানটি শুধু শুনতে ইচ্ছে করছে ।
অনেক স্মৃতি বিজড়িত মাগুরা শহর কে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। যেতে ইচ্ছে করছেনা কিন্তু দুইদিন পর থেকে খুলনা ইউনিভার্সিটি এর ক্লাস শুরু হবে।
আস্তে আস্তে মেঠ পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাসটি। চলে যাবার সময়ে মনে হতে লাগলো মাগুরায় ফেলে আসা দিন গুলো। আমি যেন ফিরে গেলাম আমার হারানো আমিতে।
আমি তখন এস,এস,সি পাশ করে মাগুরার সরকারি কলেজে ভর্তি হলাম। নিজেকে খুব স্বাধীন মনে হত।
সারাদিন হই হুল্লর করে দিন কাটতো। কিন্তু আস্তে আস্তে জীবনটা কেমন একঘেয়েমি মনে হতে লাগলো। ধরা বাধা জীবনটা কে আর ভালো লাগছিল না।
তখনি আমার জীবনে আবির্ভাবতার। খুবিই অল্প সময়েই তার আবির্ভাব ।
কলেজ লাইফের প্রথমদিনেই আমি নিলাকে দেখি...। কিন্তু কখনো কথা বলা হয়নি। শুধু জানতাম মেয়েটা পড়ালেখায় অনেক ভালো ছিল।
একা একা সময় কাটতো না।। রুম মেট দের দেখাদেখি মিগে একটা আইডি খুললাম .। প্রথম দিনেই “মাগুরা কলেজ”নামে একটা চ্যাটরুমে ঢুকি।
ঐ খানে আমার কলেজের সব বন্ধুদের খুজে পাই।। আর পাই নিলাকে।। এতদিন একসাথে পড়ে ছি কিন্তু কোন দিন ও কথা বলি নি আমরা...। মিগ থেকেই আমাদের কথা বলা শুরু।
এদিকে টেস্ট পরিক্ষা চলে এসেছে ... পড়ালেখায় আমি ব্যস্ত। মাঝে মাঝে নিলা আমাকে পড়ালেখায় হেল্প করতো।
ওর সাথে আমার মোটামোটি একটা বন্ধুত্ব ছিল। সেটাকে ভালো বন্ধুত্তে নিয়ে যেতে চাই আমি।
আর সে জন্য নতুন একটা সিম দিয়ে ও কে এসএমএস পাঠাইলাম।। ও রেস্পন্স দিল ভালভাবেই যা আমি আশা করিনি।।
পরে জানতে পেরেছি ঐ দিন ওর মন অনেক খারাপ ছিল তাই আমাকে ঐ ভাবে গ্রহন করছে।
এভাবে আমি অর সাথে অনেক সুন্দর বন্ধুত্ব করি... কিন্তু জানত না যে এসএমএস এর ছেলেটিই ওরই ক্লাসমেট ।
এর মাঝে আমাদের মধ্যে খুবি ভালো বোঝাপড়া হয়েগেল। আমি ওকে প্রায় রাতে ফোন করে গান শুনাতাম ।
ও আমার গলার স্বর বুঝতে পারত না। অনেক কথা বলতাম... অনেক মজা করতাম।। কিন্তু একটি বার এর জন্য ও আমাকে চিনতে পারেনি...।
একদিন মনে হল আমরা অনেক গভিরে চলে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে আমারা পরনির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। মনে হলে নিলাকে এখনি জানান ভালো।
ওকে সবকিছু বললাম। এসএমএস এর ছেলেটি যে ওর ক্লাস ফ্রেন্ড এইটা ভেবে ও অনেক লজ্জা পেয়েছিল সেদিন। কিন্তু আমাকে ভুল বঝেনি।
ও হয়তো এসএমএস এর ছেলেটিকে পছন্দ করে ফেলছিল, েই জন্য ও আমাকে হয়তো ভুল বুঝিনি।
আমাদের বন্ধুত্ব যেন আর বারতে লাগলো। জীবনের অনেকটি অংশ জুড়ে ছিল ও। কল্পনায় ওকে ভাবতাম আমি।
একাকি নিঃসঙ্গ সময় গুলো অপলকে কেটে যেত ওকে ভেবে। ওকে স্বপ্ন সাথি করে কল্পলকের ধ্রুবতারা ভেসে বেরাতাম আমি।
আস্তে আস্তে ওকে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতাম। কিন্তু ওকে বলতে ভয় হত!!
সব ভয়কে জয় করে একদিন বলে ফেললাম আমি...। জানিনা ও কতটা অবাক হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ওর এসএমএস পেলাম। জানতে পারলাম ও আমাকে ভালবাসে।।
এভাবেই আমাদের কাছে আসা। এরপরের সময়টা স্বপ্নের মত। এদিকে ওদিকে ঘুরা ঘুরি।
ক্লাস,ব্যাচ ফাকি দিয়ে বিভিন্ন কফিশপে। দেখা করা।ওকে রিকশাতে তুলে দেয়া, ওর ভাললাগার গান শোনান, অপলকে তাকিয়ে থাকা ওর দিকে। আর কত কি...!!!
আমদের বিচরনে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। অনেক ভালবাসতাম ওকে।
এইচ এস সি এর পর ঢাকায় আসলাম কোচিং এ। তখনও ঘুরে বেরাতাম একসাথে।
কিন্তু হটাত কি যেন হল। বাসা থেকে যেনে গেল। আপুর কাছে ধরা খেলাম। অনেক বকা দিল আমায়।
মাগুরাতে আমার বাসায় ফোনে জানান হল। আমাকে সবায় মিলে অনেক উত্যক্ত করতে লাগলো।
অনেক কেঁদেছিলাম...। সমস্ত রাগ গিয়ে নিলার উপরে ঝারলাম। বেচারি আমাকে অনেক ভালোবাসতো।
আমার আচমকা আক্রমণে ও অবাক হয়েছিল। ওর প্রতিটি অশ্রু জলের সাক্ষী আমি ছিলাম, আমি কিন্তু ওর সাথে শেয়ার করে সব কিছু আগের মত করে নিতে পারতাম।
কিন্তু থার্ড পারসন রুপে একজন এসে আবার এলোমেল করে দিল আমায়। আমাকে নিলা থেকে দূরে ঠেলে দিল।
আর বাবা মাকে অনেক ভয় পেতাম, ভাই বোন দের কেও... । আমার এই কথা গুল কাউ কে বলতে পারতাম না।
নিলার সাথে কথা বলার চেস্টা করেও পারতাম না। পারিনি আমি, ভালবাসার সেই কাঙ্ক্ষিত প্রতিশ্রুতি রাখতে।
ও এদিন অনেক কেঁদেছিল। কিন্তু কই করবো আমি। আমার সাথে থাকলে যে আর কাদতে হত ওকে। তাই নিজেকে ওর থেকে সরিয়ে নিলাম কাপুরুষের মতই।
সেদিনের পর থেকে আর আমাদের ভালবাসা টেকেনি। আমি বারবার ফিরে আসতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি।
আবার নিলাকে ভুলতেও পারিনি। ও আমাকে অনেকটা ভালবাসত। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।
এই ছিল আমার জীবনের নিলা অধ্যায়। এখনে মাঝে মাঝে ওর সাথে দেখা হয়। কিন্তু ও নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে বলে আর কস্ট দিতে ইচ্ছে হয় না।
ক্ষমা করে দিয় আমাকে তুমি। কেও বুঝেনি আমাকে, জানিনা তুমি বুঝেছ কিনা...
কষ্টের সব
প্রেম কাহিনী
Exit
“একটি অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প”
স্বপ্ন ছিল কারো প্রেম হয়ে তার ভেতর জন্ম নেব। খুব জলদি তা পূরণ হয়।
আমি তখন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। নতুন ক্লাস নতুন নতুন ছেলে মেয়ে। ভাব টাই আলাদা। বান্ধবীরা মিলে গবেষণা করতাম ছেলেদের মধ্যে কে বেশী হ্যান্ডসাম ।
রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়ে আমি। আমার কোন ছেলে বন্ধু নেই । আমার পরিবার এটা গ্রহণ করে না।
একদিন ক্লাসে একটা ছেলের দিকে নজর পড়ল । কিছুক্ষনের জন্য ধাক্কা খেলাম। এত সুন্দর ছেলেটা। আমি বারবার তাকাচ্ছিলাম।
দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এরপর থেকে শুধুই চোখাচোখি হত। ছেলেটার নাম আকাশ। একটু বেশী স্মার্ট ছিল অনেক ভাব নিয়ে চলত ক্লাসে।
এভাবে ২টা বছর কেটে গেল। প্রায়ই উড়ো কথা শুনতাম যে ওর অমুক মেয়ের সাথে সম্পর্ক অমুক মেয়ে ওর বান্ধবী।
আমার ভাললাগা আর ভালবাসায় পরিণত হয় নি।
এস.এস.সি রেজাল্ট দিল। আমরা দুজনই এ+ পেলাম। আমাদের সাথের সবাই ভাল জায়গায় ভর্তি হল। পরিবারের চাপে আমি আগের জায়গায়তেই ভর্তি হলাম।
ভর্তি হয়ে জানতে পারলাম আকাশ ও এখানেই ভর্তি।
শুরু হল নতুন অধ্যায়। এইচ.এস.সি এর ক্লাস… ক্লাস শুরু করার পর আই ডি কার্ড বানানোর জন্য ফরম দেয়া হয়। সেখানে আকাশও ছিল। আমি ফরমটা ঠিক ঠাক মত পূরণ করে দেই।
এরপর কিছুদিন পর পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার ২,৩ দিন আগে আকাশ আমাকে ফোন দিল। একটু অবাক হলাম। অপ্রত্যাশিত ছিল।
বুঝলাম ফরম থেকে নম্বর নিয়েছে। টুকটাক পড়াশোনা নিয়ে কথা হল। এরপর প্রায়ই আকাশ এর সাথে কথা হত।
ও আমাকে বন্ধুত্ব করতে বলে। না না করেও পরে রাজি হয়ে যাই। ভালই চলছিল। একদিন ভালবাসা নিয়ে কথা হল।
আকাশ আমাকে জানায় যে অন্তরা নামের একজনকে ওর খুব ভাল লাগে। কিন্তু বিয়ে সম্ভব না। ওদের পরিবার মানবে না।
কিন্ত ও নাকি অনেক ভালবাসে। এর কিছুদিন পর ও আমাকে প্রোপোজ করে। অনেক আগে থেকেই এসব ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম।
তাই ওর ফাঁদে পা দিলাম না। কিন্তু ও দক্ষ খেলোয়াড় এর মত আমাকে কনভিন্স করতে লাগল। ক্লাস ৯ থেকেই নাকি আমাকে ওর ভাল লাগে।
এসব বলে আমাকে মুগ্ধ করতে লাগল। আমি ওকে অন্তরার কথা মনে করিয়ে দিলে বলত যে ওটা এমনি। শুধু ভাল লাগা।
ভালবাসা না। আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি তবুও মানলাম না। এভাবে কেটে গেল ৭ মাস।
কিছুদিন পর আমার তখন মনে হল যে ও আমাকে আসলেই ভালবাসে। আস্তে আস্তে দুর্বল হতে লাগলাম। ওর প্রেমে সাড়া দিলাম।
অনেক ভালবাসা, ছোট ছোট আশা নিয়ে আমরা চলা শুরু করলাম।
অবাক করা বিষয় হল মাত্র ২০দিন পরই এই ভালবাসায় ফাটল ধরে। দুজন মানুষের মানসিকতা কখনও এক হয় না।
কিন্তু এত ভিন্ন হতে আমি দেখিনি। ওর অনেক মেয়ে বন্ধু ছিল। মেয়েদের সাথে হাত ধরে কথা বলা, ঘুরা, খেতে যাওয়া এগুলো ছিল ওর নিয়মিত ও স্বাভাবিক ব্যবহার।
আমি এগুলো মানতে পারতাম না। রাগ হত অনেক। এর কিছুদিন পরই ও আমাকে অনেক বাজে প্রস্তাব দেয়…
আমি এসবে রাজি হই না…ও বলে, বিয়ে তো আমাদের হবেই।
আমি রাজি হই নি। জমে থাকা রাগ গুলো ঘৃণায় পরিণত হল। তখন বুঝলাম প্রথম প্রেম অন্তরাকে ভুলে ক্ষণিকের পরিচয়ে যে আমাকে ভালবাসতে পারে তার দ্বারা সব সম্ভব।
এই ব্যাপার গুলো নিয়ে ও আমাকে চাপ দিতে থাকে। ও পাগল হয়ে উঠল। প্রায়ই জিজ্ঞেস করত বাসায় আমি একা নাকি।
অনেক খারাপ ব্যবহার করত আমার সাথে। ভয় দেখাত। আমি মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকি। হাত কাটা শুরু করলাম। উল্টা পাল্টা পিল নিতাম।
নিয়ে নেশাগ্রস্থের মত পরে থাকতাম। এরপর ওর চাপ সহ্য করতে না পেরে আমি ব্রেকাপ করি।
মুক্তি পাবার জন্য আমি ওকে ছাড়লাম। আমার মুক্তি হল না। ও আমাকে ছাড়ল না। ব্লেক মেইল করতে লাগল আমি গেলে ও নাকি আত্মহত্যা করবে।
আমিও ওকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। ওকে আমি ভালবাসতাম এখনও বাসি। কিন্তু আমি না পারব ছাড়তে না পারব ভাঙ্গা জিনিস জোড়া লাগাতে।
পরিসমাপ্তিঃ
এখনও আমরা একসাথেই আছি। আমরা গার্ল ফ্রেন্ড বয় ফ্রেন্ড ও না আবার বন্ধুও না। আমরা কি হয়ে আছি নিজেরাও জানি না।
আমি সত্যিকারের ভালবাসতাম এখনও বাসি। আমার জন্য সম্ভব না ওকে ছাড়া থাকা। ওকে বিয়েও করতে পারব না।
ধোঁকাবাজ মানুষের সাথে ঘর করা যায় না। এটা আমার মনকে বুঝাতে পারছি না। এই বছরে আমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা।
এখনো আমি জীবনের হিসাব মেলাতে পারছি না। এত অল্প সময়ে জীবনটা তিক্ত হয়ে যাবে বুঝিনি।
মানুষ আবেগের বশে ভালবাসার মানুষের জন্য কান্না করে। সে ভাবে এই মানুষটিকে ছাড়া সে বাঁচবে না। এটাই বুঝি সত্যিকারের ভালবাসা। কিন্তু সেটা সত্যিকারের ভালবাসা না।
এটা কিছু দিন/মাস/বছর পর সে নিজেই বুঝতে পারে। আমি এখন সেই দিন/মাস/বছর গুলো পার করার অপেক্ষায় আছি।
যেদিন ওকে ছাড়া থাকতে আমার একটুও কষ্ট হবে না………
আমি তখন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। নতুন ক্লাস নতুন নতুন ছেলে মেয়ে। ভাব টাই আলাদা। বান্ধবীরা মিলে গবেষণা করতাম ছেলেদের মধ্যে কে বেশী হ্যান্ডসাম ।
রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়ে আমি। আমার কোন ছেলে বন্ধু নেই । আমার পরিবার এটা গ্রহণ করে না।
একদিন ক্লাসে একটা ছেলের দিকে নজর পড়ল । কিছুক্ষনের জন্য ধাক্কা খেলাম। এত সুন্দর ছেলেটা। আমি বারবার তাকাচ্ছিলাম।
দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এরপর থেকে শুধুই চোখাচোখি হত। ছেলেটার নাম আকাশ। একটু বেশী স্মার্ট ছিল অনেক ভাব নিয়ে চলত ক্লাসে।
এভাবে ২টা বছর কেটে গেল। প্রায়ই উড়ো কথা শুনতাম যে ওর অমুক মেয়ের সাথে সম্পর্ক অমুক মেয়ে ওর বান্ধবী।
আমার ভাললাগা আর ভালবাসায় পরিণত হয় নি।
এস.এস.সি রেজাল্ট দিল। আমরা দুজনই এ+ পেলাম। আমাদের সাথের সবাই ভাল জায়গায় ভর্তি হল। পরিবারের চাপে আমি আগের জায়গায়তেই ভর্তি হলাম।
ভর্তি হয়ে জানতে পারলাম আকাশ ও এখানেই ভর্তি।
শুরু হল নতুন অধ্যায়। এইচ.এস.সি এর ক্লাস… ক্লাস শুরু করার পর আই ডি কার্ড বানানোর জন্য ফরম দেয়া হয়। সেখানে আকাশও ছিল। আমি ফরমটা ঠিক ঠাক মত পূরণ করে দেই।
এরপর কিছুদিন পর পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার ২,৩ দিন আগে আকাশ আমাকে ফোন দিল। একটু অবাক হলাম। অপ্রত্যাশিত ছিল।
বুঝলাম ফরম থেকে নম্বর নিয়েছে। টুকটাক পড়াশোনা নিয়ে কথা হল। এরপর প্রায়ই আকাশ এর সাথে কথা হত।
ও আমাকে বন্ধুত্ব করতে বলে। না না করেও পরে রাজি হয়ে যাই। ভালই চলছিল। একদিন ভালবাসা নিয়ে কথা হল।
আকাশ আমাকে জানায় যে অন্তরা নামের একজনকে ওর খুব ভাল লাগে। কিন্তু বিয়ে সম্ভব না। ওদের পরিবার মানবে না।
কিন্ত ও নাকি অনেক ভালবাসে। এর কিছুদিন পর ও আমাকে প্রোপোজ করে। অনেক আগে থেকেই এসব ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম।
তাই ওর ফাঁদে পা দিলাম না। কিন্তু ও দক্ষ খেলোয়াড় এর মত আমাকে কনভিন্স করতে লাগল। ক্লাস ৯ থেকেই নাকি আমাকে ওর ভাল লাগে।
এসব বলে আমাকে মুগ্ধ করতে লাগল। আমি ওকে অন্তরার কথা মনে করিয়ে দিলে বলত যে ওটা এমনি। শুধু ভাল লাগা।
ভালবাসা না। আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি তবুও মানলাম না। এভাবে কেটে গেল ৭ মাস।
কিছুদিন পর আমার তখন মনে হল যে ও আমাকে আসলেই ভালবাসে। আস্তে আস্তে দুর্বল হতে লাগলাম। ওর প্রেমে সাড়া দিলাম।
অনেক ভালবাসা, ছোট ছোট আশা নিয়ে আমরা চলা শুরু করলাম।
অবাক করা বিষয় হল মাত্র ২০দিন পরই এই ভালবাসায় ফাটল ধরে। দুজন মানুষের মানসিকতা কখনও এক হয় না।
কিন্তু এত ভিন্ন হতে আমি দেখিনি। ওর অনেক মেয়ে বন্ধু ছিল। মেয়েদের সাথে হাত ধরে কথা বলা, ঘুরা, খেতে যাওয়া এগুলো ছিল ওর নিয়মিত ও স্বাভাবিক ব্যবহার।
আমি এগুলো মানতে পারতাম না। রাগ হত অনেক। এর কিছুদিন পরই ও আমাকে অনেক বাজে প্রস্তাব দেয়…
আমি এসবে রাজি হই না…ও বলে, বিয়ে তো আমাদের হবেই।
আমি রাজি হই নি। জমে থাকা রাগ গুলো ঘৃণায় পরিণত হল। তখন বুঝলাম প্রথম প্রেম অন্তরাকে ভুলে ক্ষণিকের পরিচয়ে যে আমাকে ভালবাসতে পারে তার দ্বারা সব সম্ভব।
এই ব্যাপার গুলো নিয়ে ও আমাকে চাপ দিতে থাকে। ও পাগল হয়ে উঠল। প্রায়ই জিজ্ঞেস করত বাসায় আমি একা নাকি।
অনেক খারাপ ব্যবহার করত আমার সাথে। ভয় দেখাত। আমি মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকি। হাত কাটা শুরু করলাম। উল্টা পাল্টা পিল নিতাম।
নিয়ে নেশাগ্রস্থের মত পরে থাকতাম। এরপর ওর চাপ সহ্য করতে না পেরে আমি ব্রেকাপ করি।
মুক্তি পাবার জন্য আমি ওকে ছাড়লাম। আমার মুক্তি হল না। ও আমাকে ছাড়ল না। ব্লেক মেইল করতে লাগল আমি গেলে ও নাকি আত্মহত্যা করবে।
আমিও ওকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। ওকে আমি ভালবাসতাম এখনও বাসি। কিন্তু আমি না পারব ছাড়তে না পারব ভাঙ্গা জিনিস জোড়া লাগাতে।
পরিসমাপ্তিঃ
এখনও আমরা একসাথেই আছি। আমরা গার্ল ফ্রেন্ড বয় ফ্রেন্ড ও না আবার বন্ধুও না। আমরা কি হয়ে আছি নিজেরাও জানি না।
আমি সত্যিকারের ভালবাসতাম এখনও বাসি। আমার জন্য সম্ভব না ওকে ছাড়া থাকা। ওকে বিয়েও করতে পারব না।
ধোঁকাবাজ মানুষের সাথে ঘর করা যায় না। এটা আমার মনকে বুঝাতে পারছি না। এই বছরে আমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা।
এখনো আমি জীবনের হিসাব মেলাতে পারছি না। এত অল্প সময়ে জীবনটা তিক্ত হয়ে যাবে বুঝিনি।
মানুষ আবেগের বশে ভালবাসার মানুষের জন্য কান্না করে। সে ভাবে এই মানুষটিকে ছাড়া সে বাঁচবে না। এটাই বুঝি সত্যিকারের ভালবাসা। কিন্তু সেটা সত্যিকারের ভালবাসা না।
এটা কিছু দিন/মাস/বছর পর সে নিজেই বুঝতে পারে। আমি এখন সেই দিন/মাস/বছর গুলো পার করার অপেক্ষায় আছি।
যেদিন ওকে ছাড়া থাকতে আমার একটুও কষ্ট হবে না………
Sunday, April 26, 2020
একটি মেয়ে একটি ছেলেকে পাগলের মত ভালবাসে... ভালোই চলছিল তাদের দিন কাল...। ১ বছর পর মেয়েটা খেয়াল করল ছেলেটা তাকে আর আগের মত ভালবাসে না...তাকে আড় করে চলে... একটা সময় ছেলেটা মেয়েটার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো।
মেয়েটা এই বিষয় নিয়ে ছেলেটিকে প্রশ্ন করতেই সে বলে অতীত ভুলে যাও...। মেয়েটা বেইমান বলে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এলো ...। সে কিছুতেই ছেলেটিকে ক্ষমা করতে পারলো না...এই ঘটনার ৬মাস পরে মেয়েটার কাছে ছেলেটার মৃত্যু সংবাদ এলো। ছেলেটা মারা যাবার আগে মেয়েটার জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছিল...। ছেলেটার এক বন্ধু এসে মেয়েটাকে টা দিয়ে গেলো...। মেয়েটা রাগে চিঠি টা ফেলে রাখলো। রাতে ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ছিল।
সে চিঠিটা খুলে পরতে শুরু করলো
বিধাতার করুন পরিহাসে আমরা এক হতে পারলাম না।যেদিন আমি জানলাম আমি আর ৬ মাস বাঁচব সেদিন থেকে বুকে পাথর চেপে তোমার সাথে অভিনয় শুরু করলাম... ভেবেছি তুমি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে...তাই তোমার থেকে দূরে থেকেছি... যখন তুমি এটা পড়বে আমি তোমার থেকে অনেক দূরে থাকবো... আমার কারনে তোমার চোখে আমি অশ্রু দেখতে পারবো না...তাই তোমার সাথে এমন করেছি... আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো...চিঠি টা পরতে পরতে মেয়েটার চোখের জলে চিঠি টা ভিজে গেলো..
মেয়েটা এই বিষয় নিয়ে ছেলেটিকে প্রশ্ন করতেই সে বলে অতীত ভুলে যাও...। মেয়েটা বেইমান বলে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এলো ...। সে কিছুতেই ছেলেটিকে ক্ষমা করতে পারলো না...এই ঘটনার ৬মাস পরে মেয়েটার কাছে ছেলেটার মৃত্যু সংবাদ এলো। ছেলেটা মারা যাবার আগে মেয়েটার জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছিল...। ছেলেটার এক বন্ধু এসে মেয়েটাকে টা দিয়ে গেলো...। মেয়েটা রাগে চিঠি টা ফেলে রাখলো। রাতে ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ছিল।
সে চিঠিটা খুলে পরতে শুরু করলো
বিধাতার করুন পরিহাসে আমরা এক হতে পারলাম না।যেদিন আমি জানলাম আমি আর ৬ মাস বাঁচব সেদিন থেকে বুকে পাথর চেপে তোমার সাথে অভিনয় শুরু করলাম... ভেবেছি তুমি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে...তাই তোমার থেকে দূরে থেকেছি... যখন তুমি এটা পড়বে আমি তোমার থেকে অনেক দূরে থাকবো... আমার কারনে তোমার চোখে আমি অশ্রু দেখতে পারবো না...তাই তোমার সাথে এমন করেছি... আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো...চিঠি টা পরতে পরতে মেয়েটার চোখের জলে চিঠি টা ভিজে গেলো..
Wednesday, April 8, 2020
আলোই যে শুধু মানুষকে পথ দেখায় এমন নয়, নিকশ কালো আধারও কাউকে কাউকে পথ দেখায়। শুধু আশা আর অনুপ্রেরনাই সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় গভীর হতাশাও কাউকে কাউকে পিছন থেকে ঠেলা দেয়।
প্রত্যেকেরই জীবনে ছোট বড় গল্প থাকে। না পাওয়ার গল্প, কষ্ট পাওয়ার গল্প, অশ্রুভেজা রাতের গল্প।
কারো থাকে না খেয়ে থাকার নির্মম গল্প, টিউশুনির গল্প, খাঁ খাঁ রোদে ভেজা শার্টের গল্প।
আরো থাকে নির্মম অবহেলার গল্প। ছোট লোকের গল্প, বড় মানুষের গল্প। প্রতিটা কষ্টই মানুষকে শক্ত করে তোলে। নতুন করে চাপ নিতে শেখায়। হাজারো চাপে একদিন সে ভেংে যায় না, অবেলায় চোখে পানি আসে না। কচি লাউয়ের ডগায় যেদিন প্রথম কুঁড়ি আসে, কেউ ভাবে না এই ডগায় একদিন দশ কেজি লাউ ঝুলবে। ছোট বড় কষ্টগুলো নরম মানুষটাকে একদিন ইস্পাত বানিয়ে ফেলে।।
ভেংে যায়, অনেকেই ভেংে পড়ে, হারিয়ে যায় অতলে। ব্যর্থদের গল্প আমরা লিখি না। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো কষ্ট নিয়ে বেচে থাকে। সেই কষ্টের গল্প কেউ লেখে না। অবহেলা আর হতাশা মানুষকে শক্তি দেয়। সেই শক্তির খোজ সবাই পায় না। সবাইকে দেখিয়ে দেবার প্রচন্ড একটা ইচ্ছা ভিতরে কাজ করে। এই ইচ্ছা কাউকে কাউকে অনেক বড় করে তুলে। সেই বড় মানুষটার গল্প আমরা লিখি। এক সকালে দু:খ পেয়েছিল, এক বিকেলে না খেয়েছিল, এক সন্ধায় সে হাউমাউ করে কেঁদেছিল। এগুলো বড় মানুষের গল্প, বিখ্যাত মানুষদের কষ্ট পাওয়ার গল্প।
বিখ্যাত মানুষগুলোর অনেকেরই শৈশব কেটেছে ক্ষুধার কষ্টে। সে গল্পগুলো আমরা মুখস্থ রাখি। কিন্তু যাদের জীবন কাটে আজন্ম ক্ষুধায় তাদের গল্প আমরা জানি না। হতাশার শক্তি একদিন আপনাকে বড় মানুষ বানাবে। অবহেলার কষ্ট একদিন আপনাকে মহান বানাবে। কষ্ট পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল কবিতাটি লিখবেন, দূ:খ পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল গানটি লিখবেন।
না খেয়ে থাকা ছেলেটা ক্লাসের ফার্স্ট হয়। গায়ে শার্ট না থাকা ছেলেটা একদিন বিখ্যাত হয়। মানুষের টাকায় পড়া আতিকুর রহমান একদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়। এগুলো হতাশার শক্তি, কষ্টের শক্তি, না খেয়ে থাকার শক্তি। জ্বল জ্বল চোখে এ মানুষগুলো সুযোগ খুজে। সুযোগ ঠিকই একদিন আসে। কষ্টে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো সুযোগ হারায় না। যে জীবনে একটি বারের জন্যও না খেয়ে থাকতে হয় নি, যে জীবনে ক্ষুধার কষ্ট আসে নি, অর্থের কষ্ট আসে নি, না পাওয়ার দু:খ পোহাতে হয় নি, পাওয়ার আনন্দে কান্না আসে নি সেটি আসলে জীবন নয়। জীবন টা আমাদের ধারনার চেয়েও বড়। শুধু দুই টাকায় যার ঈদ কাটাতে হয় নি, তার জীবনে পূর্নতা আসে নি।
জীবনে প্রাপ্তির সাথে সাথে অবধারিত ভাবে কিছু অপ্রাপ্তি আসবে। সুখী হতে হলে অনেক কিছুই আপনাকে ভুলে যেতে হবে। কখনও হিসাব মেলাবেন না। মৃত্যুসজ্জায় থেকেও অনেকের হিসেব মিলে না।
সবচেয়ে ভাল উপায় আপনি আপনার নিচের দিকে তাকাবেন। আপনার চেয়েও অনেক দু:খী মানুষ খুজে পাবেন। রেল লাইনে ভিক্ষে করা মানুষগুলোর দিকে তাকাবেন, কমলাপুর বস্তির দিকে তাকাবেন। ওখানেও মানুষ থাকে, ওদেরও সুখ আছে দ:খ আছে। শাহবাগ মোড়ের খোড়া ভিক্ষুকটার দিকে তাকাবেন।
কখনই উপর তলার দিকে তাকাবেন না।ওখানে সুখ দু:খ খুজবেন না।
আলোই যে শুধু মানুষকে পথ দেখায় এমন নয়, নিকশ কালো আধারও কাউকে কাউকে পথ দেখায়। শুধু আশা আর অনুপ্রেরনাই সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় গভীর হতাশাও কাউকে কাউকে পিছন থেকে ঠেলা দেয়।
প্রত্যেকেরই জীবনে ছোট বড় গল্প থাকে। না পাওয়ার গল্প, কষ্ট পাওয়ার গল্প, অশ্রুভেজা রাতের গল্প।
কারো থাকে না খেয়ে থাকার নির্মম গল্প, টিউশুনির গল্প, খাঁ খাঁ রোদে ভেজা শার্টের গল্প।
আরো থাকে নির্মম অবহেলার গল্প। ছোট লোকের গল্প, বড় মানুষের গল্প। প্রতিটা কষ্টই মানুষকে শক্ত করে তোলে। নতুন করে চাপ নিতে শেখায়। হাজারো চাপে একদিন সে ভেংে যায় না, অবেলায় চোখে পানি আসে না। কচি লাউয়ের ডগায় যেদিন প্রথম কুঁড়ি আসে, কেউ ভাবে না এই ডগায় একদিন দশ কেজি লাউ ঝুলবে। ছোট বড় কষ্টগুলো নরম মানুষটাকে একদিন ইস্পাত বানিয়ে ফেলে।।
ভেংে যায়, অনেকেই ভেংে পড়ে, হারিয়ে যায় অতলে। ব্যর্থদের গল্প আমরা লিখি না। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো কষ্ট নিয়ে বেচে থাকে। সেই কষ্টের গল্প কেউ লেখে না। অবহেলা আর হতাশা মানুষকে শক্তি দেয়। সেই শক্তির খোজ সবাই পায় না। সবাইকে দেখিয়ে দেবার প্রচন্ড একটা ইচ্ছা ভিতরে কাজ করে। এই ইচ্ছা কাউকে কাউকে অনেক বড় করে তুলে। সেই বড় মানুষটার গল্প আমরা লিখি। এক সকালে দু:খ পেয়েছিল, এক বিকেলে না খেয়েছিল, এক সন্ধায় সে হাউমাউ করে কেঁদেছিল। এগুলো বড় মানুষের গল্প, বিখ্যাত মানুষদের কষ্ট পাওয়ার গল্প।
বিখ্যাত মানুষগুলোর অনেকেরই শৈশব কেটেছে ক্ষুধার কষ্টে। সে গল্পগুলো আমরা মুখস্থ রাখি। কিন্তু যাদের জীবন কাটে আজন্ম ক্ষুধায় তাদের গল্প আমরা জানি না। হতাশার শক্তি একদিন আপনাকে বড় মানুষ বানাবে। অবহেলার কষ্ট একদিন আপনাকে মহান বানাবে। কষ্ট পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল কবিতাটি লিখবেন, দূ:খ পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল গানটি লিখবেন।
না খেয়ে থাকা ছেলেটা ক্লাসের ফার্স্ট হয়। গায়ে শার্ট না থাকা ছেলেটা একদিন বিখ্যাত হয়। মানুষের টাকায় পড়া আতিকুর রহমান একদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়। এগুলো হতাশার শক্তি, কষ্টের শক্তি, না খেয়ে থাকার শক্তি। জ্বল জ্বল চোখে এ মানুষগুলো সুযোগ খুজে। সুযোগ ঠিকই একদিন আসে। কষ্টে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো সুযোগ হারায় না। যে জীবনে একটি বারের জন্যও না খেয়ে থাকতে হয় নি, যে জীবনে ক্ষুধার কষ্ট আসে নি, অর্থের কষ্ট আসে নি, না পাওয়ার দু:খ পোহাতে হয় নি, পাওয়ার আনন্দে কান্না আসে নি সেটি আসলে জীবন নয়। জীবন টা আমাদের ধারনার চেয়েও বড়। শুধু দুই টাকায় যার ঈদ কাটাতে হয় নি, তার জীবনে পূর্নতা আসে নি।
জীবনে প্রাপ্তির সাথে সাথে অবধারিত ভাবে কিছু অপ্রাপ্তি আসবে। সুখী হতে হলে অনেক কিছুই আপনাকে ভুলে যেতে হবে। কখনও হিসাব মেলাবেন না। মৃত্যুসজ্জায় থেকেও অনেকের হিসেব মিলে না।
সবচেয়ে ভাল উপায় আপনি আপনার নিচের দিকে তাকাবেন। আপনার চেয়েও অনেক দু:খী মানুষ খুজে পাবেন। রেল লাইনে ভিক্ষে করা মানুষগুলোর দিকে তাকাবেন, কমলাপুর বস্তির দিকে তাকাবেন। ওখানেও মানুষ থাকে, ওদেরও সুখ আছে দ:খ আছে। শাহবাগ মোড়ের খোড়া ভিক্ষুকটার দিকে তাকাবেন।
কখনই উপর তলার দিকে তাকাবেন না।ওখানে সুখ দু:খ খুজবেন না।
প্রত্যেকেরই জীবনে ছোট বড় গল্প থাকে। না পাওয়ার গল্প, কষ্ট পাওয়ার গল্প, অশ্রুভেজা রাতের গল্প।
কারো থাকে না খেয়ে থাকার নির্মম গল্প, টিউশুনির গল্প, খাঁ খাঁ রোদে ভেজা শার্টের গল্প।
আরো থাকে নির্মম অবহেলার গল্প। ছোট লোকের গল্প, বড় মানুষের গল্প। প্রতিটা কষ্টই মানুষকে শক্ত করে তোলে। নতুন করে চাপ নিতে শেখায়। হাজারো চাপে একদিন সে ভেংে যায় না, অবেলায় চোখে পানি আসে না। কচি লাউয়ের ডগায় যেদিন প্রথম কুঁড়ি আসে, কেউ ভাবে না এই ডগায় একদিন দশ কেজি লাউ ঝুলবে। ছোট বড় কষ্টগুলো নরম মানুষটাকে একদিন ইস্পাত বানিয়ে ফেলে।।
ভেংে যায়, অনেকেই ভেংে পড়ে, হারিয়ে যায় অতলে। ব্যর্থদের গল্প আমরা লিখি না। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো কষ্ট নিয়ে বেচে থাকে। সেই কষ্টের গল্প কেউ লেখে না। অবহেলা আর হতাশা মানুষকে শক্তি দেয়। সেই শক্তির খোজ সবাই পায় না। সবাইকে দেখিয়ে দেবার প্রচন্ড একটা ইচ্ছা ভিতরে কাজ করে। এই ইচ্ছা কাউকে কাউকে অনেক বড় করে তুলে। সেই বড় মানুষটার গল্প আমরা লিখি। এক সকালে দু:খ পেয়েছিল, এক বিকেলে না খেয়েছিল, এক সন্ধায় সে হাউমাউ করে কেঁদেছিল। এগুলো বড় মানুষের গল্প, বিখ্যাত মানুষদের কষ্ট পাওয়ার গল্প।
বিখ্যাত মানুষগুলোর অনেকেরই শৈশব কেটেছে ক্ষুধার কষ্টে। সে গল্পগুলো আমরা মুখস্থ রাখি। কিন্তু যাদের জীবন কাটে আজন্ম ক্ষুধায় তাদের গল্প আমরা জানি না। হতাশার শক্তি একদিন আপনাকে বড় মানুষ বানাবে। অবহেলার কষ্ট একদিন আপনাকে মহান বানাবে। কষ্ট পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল কবিতাটি লিখবেন, দূ:খ পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল গানটি লিখবেন।
না খেয়ে থাকা ছেলেটা ক্লাসের ফার্স্ট হয়। গায়ে শার্ট না থাকা ছেলেটা একদিন বিখ্যাত হয়। মানুষের টাকায় পড়া আতিকুর রহমান একদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়। এগুলো হতাশার শক্তি, কষ্টের শক্তি, না খেয়ে থাকার শক্তি। জ্বল জ্বল চোখে এ মানুষগুলো সুযোগ খুজে। সুযোগ ঠিকই একদিন আসে। কষ্টে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো সুযোগ হারায় না। যে জীবনে একটি বারের জন্যও না খেয়ে থাকতে হয় নি, যে জীবনে ক্ষুধার কষ্ট আসে নি, অর্থের কষ্ট আসে নি, না পাওয়ার দু:খ পোহাতে হয় নি, পাওয়ার আনন্দে কান্না আসে নি সেটি আসলে জীবন নয়। জীবন টা আমাদের ধারনার চেয়েও বড়। শুধু দুই টাকায় যার ঈদ কাটাতে হয় নি, তার জীবনে পূর্নতা আসে নি।
জীবনে প্রাপ্তির সাথে সাথে অবধারিত ভাবে কিছু অপ্রাপ্তি আসবে। সুখী হতে হলে অনেক কিছুই আপনাকে ভুলে যেতে হবে। কখনও হিসাব মেলাবেন না। মৃত্যুসজ্জায় থেকেও অনেকের হিসেব মিলে না।
সবচেয়ে ভাল উপায় আপনি আপনার নিচের দিকে তাকাবেন। আপনার চেয়েও অনেক দু:খী মানুষ খুজে পাবেন। রেল লাইনে ভিক্ষে করা মানুষগুলোর দিকে তাকাবেন, কমলাপুর বস্তির দিকে তাকাবেন। ওখানেও মানুষ থাকে, ওদেরও সুখ আছে দ:খ আছে। শাহবাগ মোড়ের খোড়া ভিক্ষুকটার দিকে তাকাবেন।
কখনই উপর তলার দিকে তাকাবেন না।ওখানে সুখ দু:খ খুজবেন না।
আলোই যে শুধু মানুষকে পথ দেখায় এমন নয়, নিকশ কালো আধারও কাউকে কাউকে পথ দেখায়। শুধু আশা আর অনুপ্রেরনাই সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় গভীর হতাশাও কাউকে কাউকে পিছন থেকে ঠেলা দেয়।
প্রত্যেকেরই জীবনে ছোট বড় গল্প থাকে। না পাওয়ার গল্প, কষ্ট পাওয়ার গল্প, অশ্রুভেজা রাতের গল্প।
কারো থাকে না খেয়ে থাকার নির্মম গল্প, টিউশুনির গল্প, খাঁ খাঁ রোদে ভেজা শার্টের গল্প।
আরো থাকে নির্মম অবহেলার গল্প। ছোট লোকের গল্প, বড় মানুষের গল্প। প্রতিটা কষ্টই মানুষকে শক্ত করে তোলে। নতুন করে চাপ নিতে শেখায়। হাজারো চাপে একদিন সে ভেংে যায় না, অবেলায় চোখে পানি আসে না। কচি লাউয়ের ডগায় যেদিন প্রথম কুঁড়ি আসে, কেউ ভাবে না এই ডগায় একদিন দশ কেজি লাউ ঝুলবে। ছোট বড় কষ্টগুলো নরম মানুষটাকে একদিন ইস্পাত বানিয়ে ফেলে।।
ভেংে যায়, অনেকেই ভেংে পড়ে, হারিয়ে যায় অতলে। ব্যর্থদের গল্প আমরা লিখি না। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো কষ্ট নিয়ে বেচে থাকে। সেই কষ্টের গল্প কেউ লেখে না। অবহেলা আর হতাশা মানুষকে শক্তি দেয়। সেই শক্তির খোজ সবাই পায় না। সবাইকে দেখিয়ে দেবার প্রচন্ড একটা ইচ্ছা ভিতরে কাজ করে। এই ইচ্ছা কাউকে কাউকে অনেক বড় করে তুলে। সেই বড় মানুষটার গল্প আমরা লিখি। এক সকালে দু:খ পেয়েছিল, এক বিকেলে না খেয়েছিল, এক সন্ধায় সে হাউমাউ করে কেঁদেছিল। এগুলো বড় মানুষের গল্প, বিখ্যাত মানুষদের কষ্ট পাওয়ার গল্প।
বিখ্যাত মানুষগুলোর অনেকেরই শৈশব কেটেছে ক্ষুধার কষ্টে। সে গল্পগুলো আমরা মুখস্থ রাখি। কিন্তু যাদের জীবন কাটে আজন্ম ক্ষুধায় তাদের গল্প আমরা জানি না। হতাশার শক্তি একদিন আপনাকে বড় মানুষ বানাবে। অবহেলার কষ্ট একদিন আপনাকে মহান বানাবে। কষ্ট পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল কবিতাটি লিখবেন, দূ:খ পেয়ে আপনি সবচেয়ে ভাল গানটি লিখবেন।
না খেয়ে থাকা ছেলেটা ক্লাসের ফার্স্ট হয়। গায়ে শার্ট না থাকা ছেলেটা একদিন বিখ্যাত হয়। মানুষের টাকায় পড়া আতিকুর রহমান একদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়। এগুলো হতাশার শক্তি, কষ্টের শক্তি, না খেয়ে থাকার শক্তি। জ্বল জ্বল চোখে এ মানুষগুলো সুযোগ খুজে। সুযোগ ঠিকই একদিন আসে। কষ্টে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো সুযোগ হারায় না। যে জীবনে একটি বারের জন্যও না খেয়ে থাকতে হয় নি, যে জীবনে ক্ষুধার কষ্ট আসে নি, অর্থের কষ্ট আসে নি, না পাওয়ার দু:খ পোহাতে হয় নি, পাওয়ার আনন্দে কান্না আসে নি সেটি আসলে জীবন নয়। জীবন টা আমাদের ধারনার চেয়েও বড়। শুধু দুই টাকায় যার ঈদ কাটাতে হয় নি, তার জীবনে পূর্নতা আসে নি।
জীবনে প্রাপ্তির সাথে সাথে অবধারিত ভাবে কিছু অপ্রাপ্তি আসবে। সুখী হতে হলে অনেক কিছুই আপনাকে ভুলে যেতে হবে। কখনও হিসাব মেলাবেন না। মৃত্যুসজ্জায় থেকেও অনেকের হিসেব মিলে না।
সবচেয়ে ভাল উপায় আপনি আপনার নিচের দিকে তাকাবেন। আপনার চেয়েও অনেক দু:খী মানুষ খুজে পাবেন। রেল লাইনে ভিক্ষে করা মানুষগুলোর দিকে তাকাবেন, কমলাপুর বস্তির দিকে তাকাবেন। ওখানেও মানুষ থাকে, ওদেরও সুখ আছে দ:খ আছে। শাহবাগ মোড়ের খোড়া ভিক্ষুকটার দিকে তাকাবেন।
কখনই উপর তলার দিকে তাকাবেন না।ওখানে সুখ দু:খ খুজবেন না।
Sunday, March 1, 2020
Specification KTM Duke 200 KTM RC 200 Displacement(cc) 199.5 200 price ₹ 1,71,917 ...